
মো.রাজিবুল ইসলাম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ অনুপাতে সিমেন্ট না মেশানো এবং তদারকির অভাবের কারণে পুরো কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত প্রাচীরের কাজে অনিয়মের এমন চিত্র সামনে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, প্রাচীর নির্মাণে ইটের খোয়া না চেলে বালু ও ডাস্ট মিশিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।
সিমেন্টের পরিমাণও ছিল নামমাত্র। ফলে নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রাচীরের পিলার হাতের চাপেই ভেঙে পড়ছে।
এবিষয়ে স্থানীয় আবু সাঈদ বলেন, “ঢালাইয়ের মিশ্রণে সিমেন্টের পরিমাণ একেবারেই কম ছিল। রডের সেন্টারিং ঠিক নেই, পিলারের ফিনিশিং খারাপসব মিলিয়ে কাজটি অত্যন্ত নিম্নমানের।”
এদিকে চলমান কাজের ঠিকাদারের ভাগিনা পরিচয়ে নয়ন দাম্ভিকতার সহিত বলেন, ঢালাই দাও যা হয় হবে আমার মামা নাটোরের বড় ঠিকাদার আমার মামা কম না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, “বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে কাউকে না জানিয়ে কাজ করা হয়েছে। এসে দেখি বালু বেশি, সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। পিলারগুলো বাঁকা এবং দুর্বল—হাতে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী অফিস কে জানালে, প্রকৌশলী অফিসের প্রতিনিধি সরেজমিনে এসে নিম্নমানের কাজের সত্যতা পান এবং সংশোধনের আশ্বাস দেন।
২৯ শে মার্চ বিকেলে এবিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ বলেন,তিনি সরজমিনে এসে ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম এবং রডের সেন্টারিংয়ে সমস্যার সত্যতা পান। ঠিকাদারকে ডেকে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম তারা মেনে নেবেন না। তারা দ্রুত সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply